ডিজিটাল এই যুগে এসেও যদি লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করেন। তাহলে আপনার মতো বকা আর একটাও নেই। এখন ঘরে বসেই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই জানেন না—কোথা থেকে শুরু করবেন, কী ডকুমেন্ট লাগবে, ভুল হলে কী করবেন।
এই পোস্টে আপনি যা পাবেন বিস্তারিত
✔ নতুন NID আবেদন।
✔ ভুল সংশোধন।
✔ স্মার্ট কার্ড আপডেট।
✔ স্ট্যাটাস চেক।
✔ সাধারণ সমস্যা সমাধান।সবকিছু একদম Step by Step সহজ ভাষায় জানতে পারবেন।
কোন কোন বিষয়ে অনলাইনে আবেদন করা যায়
অনলাইনে আপনি মূলত ৩ ধরনের কাজ এর জন্য অ্যাপলাই করতে পারবেন
1️⃣ নতুন ভোটার হওয়ার জন্য NID আবেদন।
যারা এখনো ভোটার হননি।
2️⃣ এনআইডি সংশোধন আবেদন।
নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ছবি, ঠিকানা ভুল হলে।
3️⃣ স্মার্ট কার্ড পুনরায় উত্তোলন।
কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে।
আরো পড়ুন :- এখন যেকোন দেশ থেকে জমির দলিল পাওয়া যাবে
কারা অনলাইনে এনআইডি আবেদন করতে পারবেন
আপনার বয়স যদি ১৮ বছর বা তার বেশি হয় এবং আগে কখনো এনআইডি না করে থাকেন, তাহলে আপনি অনলাইনে নতুন এনআইডির জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাদের আগে থেকেই এনআইডি আছে তারা নতুন আবেদন করতে পারবেন না, তারা শুধুমাত্র সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।অনেকেই ভুল করে দুইবার আবেদন করে বসেন। এতে সিস্টেমে ডুপ্লিকেট তৈরি হয় এবং ফাইল আটকে যায়। তাই আগে নিশ্চিত হোন আপনি নতুন আবেদন করছেন নাকি সংশোধন।
আবেদন করার আগে যা যা লাগবে
✔ অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
✔ মোবাইল নম্বর (নিজের নামে হলে ভালো)।
✔ পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
✔ শিক্ষাগত সনদ (যদি থাকে)।
✔ বাবা-মায়ের এনআইডি কপি।
✔ স্থায়ী ঠিকানা তথ্য।
👉 আগেই স্ক্যান বা ছবি তুলে রাখলে আবেদন দ্রুত শেষ হবে।
এনআইডি অনলাইনে আবেদন করার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
(এই সাইট ছাড়া অন্য কোথাও আবেদন করবেন না) না হলে পরে সমস্যা পড়তে পাড়েন। অবশ্যই আবেদন করার আগে যাচাই-বাচাই করে পরে ইনফরমেশন দিবেন। এবং আবেদন সম্পন্ন করবেন।
ধাপে ধাপে এনআইডি কার্ড অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি
একাউন্ট কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
1️⃣ প্রথমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
2️⃣ Register অপশনে ক্লিক করুন।
3️⃣ জন্ম তারিখ দিন।(জন্ন নিবন্ধন যা আছে)।
4️⃣ জন্ম নিবন্ধন নম্বর লিখুন। (জন্ন নিবন্ধনে পাবেন ১৭ সংখ্যার)।
5️⃣ ক্যাপচা পূরণ করুন।
6️⃣ Submit বাটনে চাপেন।
মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন
✔ আপনার মোবাইলে OTP কোড যাবে।
✔ কোড বসিয়ে Verify করুন।
👉 এখানে ভুল নাম্বার দিলে পরে সমস্যা হবে। অবশ্যই যে বিলিড নাম্বার বা সচল আছে এমন নাম্বার দিবেন, না হলে সমস্যা পড়বেন
আরো পড়ুন:- WhatsApp নতুন ৭টি শক্তিশালী ফিচার এড হলো! না জানলে বড় ভুল করবেন!
প্রোফাইল ইনফরমেশন সঠিক দেন
এখন আপনার সামনে একটা ফর্ম ওপেন হবে। এখানে দিতে হবে:
✔ নাম (বাংলা ও ইংরেজি)।(সঠিক দেন)
✔ পিতার নাম।(সঠিক দেন)
✔ মাতার নাম।(সঠিক দেন)
✔ জন্মস্থান।(সঠিক দেন)
✔ স্থায়ী ঠিকানা।(সঠিক দেন)
✔ বর্তমান ঠিকানা।(সঠিক দেন)
✔ পেশা।
✔ শিক্ষাগত যোগ্যতা তথ্য।
👉 বানান খুব ভালো করে মিলিয়ে লিখবেন। প্রয়োজন হলে ১০ বার পড়বেন মিলাবেন, যেনো একটি অক্ষর ও ভুল না হয়। যদি ভুল দিয়ে থাকেন পরবর্তী আবার সমস্যায় পড়বেন। ফলে আবার এই ভুল সংশোধন এর জন্য আবার হয়রানির শিকার হতে হবে।
পিকচার ও ডকুমেন্ট আপলোড
✔ পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
✔ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি।
✔ সার্টিফিকেট (যদি থাকে)।
📌 পিকচার অবশ্যই পরিষ্কার ও ফেস স্পষ্ট দেখা যেতে হবে। না হলে পিকচার নিবে না।
আবেদন সাবমিট করুন
সব তথ্য যাচাই-বাচাই করে নিন, যদি সব তথ্য সঠিক হয় তাহলে সাবমিট করুন।
✔ Final Review করুন।
✔ Submit Application বাটনে ক্লিক করুন।
এখন আপনার আবেদন সম্পন্ন হয়েছে।
আবেদন করার পর কি করা লাগবে
অনলাইনে আবেদন শেষ হলেও বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ + ছবি) দিতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা নির্বাচন অফিসে যেতে হবে।আপনার প্রোফাইলে দেখাবে, Biometrics Pending
বায়োমেট্রিক দিতে যা লাগবে
✔ আবেদন স্লিপ প্রিন্ট। (অবশ্যই কম্পিউটার দোকান থেকে পিন্ট করে নিবেন)।
✔ জন্ম নিবন্ধন। (মেন কপি অবশ্যই)
✔ শিক্ষাগত সনদ।
✔ ২ কপি ছবি।
অবশ্যই এই ডকুমেন্টস গুলো সাথে করে নিয়ে যাবেন।
অনলাইন আবেদন শেষ হলে কিছুদিনের মধ্যে আপনার মোবাইলে একটি SMS আসবে অথবা ড্যাশবোর্ডে লগইন করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ দেখা যাবে। নির্ধারিত দিনে উপরে দেওয়া মূল কাগজপত্র নিয়ে নিকটস্থ নির্বাচন অফিস বা নির্ধারিত কেন্দ্রে যান। সেখানে আপনার ছবি তোলা হবে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হবে এবং স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
একটি গোপন টিপস—সকালে গেলে ভিড় কম থাকে এবং কাজ দ্রুত হয়। দুপুরের পরে গেলে অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়।
এনআইডি আবেদন স্ট্যাটাস চেক
1️⃣ ওয়েবসাইটে লগইন করুন।
2️⃣ Dashboard এ যান।
3️⃣ Application Status অপশন দেখুন।
এখানে দেখা যাবে
✔ Pending।
✔ Processing।
✔ Approved।
✔ Card Ready।
এনআইডি কার্ড পেতে কতদিন লাগে
সাধারণভাবে বায়োমেট্রিক দেওয়ার পর ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে স্মার্ট এনআইডি তৈরি হয়। তবে কিছু এলাকায় এটি ৪০ দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে। আপনার এলাকায় প্রিন্ট ও ডেলিভারি স্লটের উপর সময় নির্ভর করে।
অনেকের ৭০% আবেদন আটকে যায় (বাস্তব অভিজ্ঞতা)
সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় জন্ম নিবন্ধনের সাথে নাম বা জন্ম তারিখ না মিললে। এছাড়া পিতার এনআইডি নম্বর ভুল দিলে ফাইল আটকে যায়। অনেকেই এডিট করা ডকুমেন্ট আপলোড করেন, যা সহজেই ধরা পড়ে। আবার কেউ কেউ একই ব্যক্তির নামে দুইবার আবেদন করে বসেন। এই কারণগুলো এড়িয়ে চললে আপনার আবেদন প্রায় নিশ্চিতভাবে সফল হবে।
অনলাইনে আবেদন করতে টাকা লাগে
নতুন NID আবেদন
✔ সম্পূর্ণ ফ্রি
সংশোধন বা পুনরায় কার্ড
✔ ২০০ – ৫০০ টাকা (সমস্যা অনুযায়ী) তবে দেখে নিবেন কতো টাকা পেমেন্ট করতে হবে বিকাশ মাধ্যমে।
স্মার্ট এনআইডি হাতে পাওয়ার পর যা করবেন
কার্ড পাওয়ার পর প্রথমেই অনলাইন ভেরিফিকেশন করে দেখুন তথ্য ঠিক আছে কিনা। এরপর ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করে নিজের ইমেইল বা গুগল ড্রাইভে সংরক্ষণ করুন। ভবিষ্যতে কার্ড হারিয়ে গেলে এই ব্যাকআপ আপনাকে অনেক ঝামেলা থেকে বাঁচাবে।
কেন স্মার্ট এনআইডি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট
স্মার্ট এনআইডি দিয়ে আপনি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবেন, মোবাইল সিম নিবন্ধন করতে পারবেন, পাসপোর্ট করতে পারবেন, সরকারি ভাতা নিতে পারবেন এবং প্রায় সব অনলাইন সরকারি সেবা নিতে পারবেন। এক কথায় এটি এখন নাগরিক পরিচয় পএ মূল চাবিকাঠি।
উপসংহার
অনলাইনে এনআইডি আবেদন করা এখন আর কঠিন কোনো বিষয় নয়। শুধু সঠিক নিয়ম জানলে এবং ধাপে ধাপে কাজ করলে আপনি নিজেই সহজে আবেদন করতে পারবেন। এই গাইডে আমি চেষ্টা করেছি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এমন তথ্য দিতে যেগুলো সাধারণ অন্য কেউ বলে না। আশা করি এটি আপনার কাজে আসবে। তারপর ও যদি কোনো কিছু মিস হয়ে থাকে, বা আপনার জানার প্রয়োজন আছে বাট এই পোস্টে লিখা নাই। আমাদের কে বললে আমরা আপটেট করে নিবো। ধন্যবাদ।
প্রশ্ন ও উওর
১৮ বছরের আগে Nid Card আবেদন করা যাবে?
না। ১৮ বছর পূর্ণ না হলে ভোটার Card করতে পারবেন না।
মোবাইল নাম্বার বদলানো যাবে?
হ্যাঁ। প্রোফাইল সেটিংস থেকে পরিবর্তন করা যায়।
ভুল তথ্য দিলে কি সংশোধন করা যাবে?
হ্যাঁ। Correction অপশন থেকে সংশোধন আবেদন করা যায়। (তবে টাকা লাগবে)
কার্ড হাতে না পেলে কি করবো?
আপনার উপজেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।
একাধিকবার আবেদন করলে সমস্যা হবে?
হ্যাঁ। Duplicate আবেদন করলে বাতিল হতে পারে।
আবেদন করা কি ফ্রি নাকি টাকা লাগে?
নতুন NID আবেদন সম্পূর্ণ ফ্রি। তবে কার্ড হারানো বা পুনরায় উত্তোলনের ক্ষেত্রে ২০০–৫০০ টাকা চার্জ হতে পারে।
আবেদন করার সময় OTP আসছে না, কি করবো?
নেটওয়ার্ক ঠিক আছে কিনা দেখুন। কিছুক্ষণের পর আবার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে অন্য মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করুন।
