রমজান মাস হলো আমাদের একটি প্রিয় মাস। কারন এই এক মাস ব্যাপি আমাদের জন্য এমন একটি মাস হিসাবে আসে যেখানে অল্প ইবাদতে সওয়াব হয় কয়েক গুন বেশি।
রমজান নাম শুনলে মুসলমানের হৃদয়ে আলাদা এক অনুভূতি জ্রাগরোত হয়ে ওঠে। বছরের অন্য সময়গুলোর তুলনায় রমজান মানেই বেশি ইবাদত, বেশি সংযম, বেশি আত্মশুদ্ধি। আর রমজান সামনে এলেই প্রায় সবার প্রথম প্রশ্ন হয়, রোজা কতো তারিখ থেকে শুরু হতে পারে। কারন সঠিক ইনফরমেশন পাওয়া যায় না রোজার আগে অন্য সকল সাইটে। বাট আমরা একটা সম্ভাব্য তারিখ আপনাকে জানাবো এই পোষ্টে।
রমজানের তারিখ জানলে আমাদের আগের থেকে রমজানের প্রস্তুতি নিতে পারি। তাই রমজানের তারিখ জানাটা আমাদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে।
তাই রোজার সম্ভাব্য তারিখ জানা থাকলে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত হওয়া অনেক সহজ হয়।
প্রথম রোজা কবে শুরু হবে
ইসলামি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণভাবে চাঁদের ওপর নির্ভরশীল। তাই রমজান বা রোজার সঠিক তারিখ আগেভাগে ১০০% নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব ও পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে সম্ভাব্য তারিখ বলা যায়।
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী পবিত্র রমজানের চাঁদ দেখা যেতে পারে ফেব্রুয়ারি ১৭ তারিখে (মঙ্গলবার)। আর সে হিসাবে। সৌদি আরবে রমজান শুরু হতে পারে: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বুধবার)।
বাংলাদেশে সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পরে রোজা শুরু হয়।
সেই হিসাবে বাংলাদেশে রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে। ফেব্রুয়ারি ১৮ তারিখ ২০২৬ (বুধবার)। চাঁদ দেখা গেলে ফেব্রুয়ারি ১৯ তারিখ (বৃহস্পতিবার) রোজা শুরু শুরু হতে পারে।
অবশ্যই এটা ক্যালেন্ডার হিসাবে বলা হইছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিবে চাঁদ দেখার পর।(চাঁদ কমিটি)
রোজার চূড়ান্ত তারিখ কিভাবে নির্ধারণ করা হয়
বাংলাদেশে রোজার তারিখ নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। এটি অনেকেই পুরোপুরি জানেন না।
শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায়,
- দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদ দেখা হয়।
- ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি তথ্য সংগ্রহ করে।
- চাঁদ দেখা গেলে সেই রাতেই ঘোষণা আসে।
- ঘোষণা অনুযায়ী পরদিন থেকে রোজা শুরু হয়।
যদি ২৯ শাবানে চাঁদ দেখা না যায়, তাহলে শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হয় এবং তার পরদিন থেকে রোজা শুরু হয়।
এই কারণেই রোজার তারিখ একদিন এদিক-ওদিক হতে পারে। তবে অবশ্যই এই দিন বা তারিখ এর বাইরে হবে না এটা নিচিন্ত থাকেন।
সৌদি আরব ও বাংলাদেশের রোজা পার্থক্য কারন
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে “সৌদি আরবে আজ রোজা, বাংলাদেশে কেন কাল?”
এর পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ আছে
প্রথমত, সৌদি আরব ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আলাদা। চাঁদ দেখা যাওয়ার সময়ও ভিন্ন হয়। আর
দ্বিতীয়ত, ইসলামি শরিয়তে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত, আবহাওয়া ও আকাশ পরিষ্কার না থাকার কারণেও চাঁদ দেখা বিলম্বিত হতে পারে।
এ কারণে একদিন পার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক এবং এটি কোনো ভুল নয়। তাই আমরা এইসব ছোটো বিষয়ে মাথা না ঘামানোই ভালো।
রমজানের আগে প্রস্তুতি নেওয়া
অনেকে ভাবে, “রমজান আসলে তখন দেখা যাবে।”
কিন্তু বাস্তবতা হলো, হঠাৎ করে রোজা শুরু হলে শরীর ও মন দুটোই ধাক্কা খায়।
রমজানের আগে প্রস্তুতি নিলে—
- রোজা রাখা সহজ হয়।
- মাথাব্যথা, দুর্বলতা কমে।
- পানি তূষ্ণাভাব কমে।
- ইবাদতে মন বসে।
- রাগ ও অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এই প্রস্তুতি শুধু শারীরিক নয়, মানসিক ভাবে ও ভেতর থেকে পুরো প্রস্তুত করে তুলে।
আরো পড়ুন:- রমজান আসছে সামনে: রমজানের আগে কিভাবে ৭ টি প্রস্ততি না নিলেই ভুল করবেন
রোজার জন্য প্রস্তুত নেওয়া
রমজান শুধু না খেয়ে থাকা নয়, বরং নিজের চরিত্র ও আচরণ ঠিক করার মাস।
রমজানের আগে—
রাগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন
অহেতুক কথা ও গিবত কমান
নামাজে মনোযোগ বাড়ান
আল্লাহর কাছে নিয়ত করুন—এই রমজানটা আগের চেয়ে ভালো হবে
মানসিক প্রস্তুতি থাকলে রোজা শুধু কষ্টের হবে না, বরং প্রশান্তির হবে।
আরো পড়ুন:- রমজানের আগে শাবান মাসে রোজা রাখার আশ্চর্য ফজিলত
রোজার জন্য ধীরে ধীরে প্রস্তুত শরীরকে
হঠাৎ করে ১৪–১৫ ঘণ্টা না খেলে শরীর সমস্যায় পড়ে। তাই আগে থেকেই কিছু অভ্যাস বদলানো দরকার।
যেমন
- চা, কফি ধীরে ধীরে কমান।
- রাতে দেরি করে খাওয়ার অভ্যাস ছাড়ুন।
- পানি বেশি পান করুন।
- হালকা খাবারে অভ্যস্ত হন।
এগুলো করলে রমজানের প্রথম কয়েকটা রোজা অনেক সহজ হবে। পরে হয়তো পুরো মাস একটি স্বস্তি ভা লাগবে।
নিয়ত ঠিক করুন
অনেকেই রোজা রাখেন অভ্যাসবশত। কিন্তু নিয়ত ঠিক থাকলে রোজার সওয়াবও বাড়ে।
নিজেকে প্রশ্ন করুন
আমি কেন রোজা রাখছি?
আমি কি শুধু খাবার ছাড়ছি, নাকি গুনাহও ছাড়ছি?
রমজান হচ্ছে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে নিয়ত পরিষ্কার থাকা দরকার। ও রমজানে যতো পাড়া যায় ইবাদতে মুশকিল থাকা।
রমজান মানে সওয়াবের মাস
রমজান এমন একটি মাস
- যেখানে অল্প আমলে বেশি সওয়াব।
- দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
- গুনাহ মাফের দরজা খোলা থাকে।
- ইবাদত করা যায় বেশি।
- তাহাজ্জুদের নামাজ ও পড়া যায় নিয়মিত সাহরি সময়।
এই মাসটা যেন শুধু ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ না হয়ে যায়। রোজা কতো তারিখ—এই প্রশ্নের উত্তর জানার পাশাপাশি আমাদের প্রস্তুতিও থাকা দরকার।
উপসংহার
রমজান আমাদের জীবনে ১১ টা মাস পারি দিয়ে মাএ ১ টা মাসের জন্য আসে। তাই এই মাসটাকে যদি ৷ আমরা হালকাভাবে নেই। তাহলে আমরা সবচেয়ে বড়ো বোকামি করবো।
এই ১ টি মাস আমাদের জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। এই মাসে যেমন পুরন
গুনাগুলো আল্লাহর দরবারে ফরিহাদ করে মাফ করানো যায়। তেমনই বেশি বেশি ইবাদত করা যায়। আর এই এক মাসে অল্প ইবাদতেও অনেক গুন নেকি পাওয়া যায়। তাই এই মাসটিকে হেলায়-দুলায় কাটিয়ে দেওয়া যাবে না। নিজের গুনা মাফ করে নেওয়ার বড়ো সুযোগ।
আল্লাহ যেনো আমাদের সবাইকে সুস্থভাবে ৩০টি রমজান পাওয়ার এবং সঠিকভাবে রোজা রাখার তাওফিক দান করেন। আমিন।
প্রশ্ন ও উত্তর
রোজা কতো তারিখ শুরু হবে বাংলাদেশে?
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে সম্ভাব্য ১৯ বা ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
রমজান শুরু হওয়ার আগের রাতেই কি সাহরি খেতে হয়?
না। চাঁদ দেখা গেলে যে রাত শুরু হয় সেটাই রমজানের প্রথম রাত, আর তার পরদিন ভোরে সাহরি খেয়ে প্রথম রোজা রাখতে হয়।
রোজার চূড়ান্ত ঘোষণা কে দেয়?
বাংলাদেশ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
রমজানের তারিখ কি সব দেশে এক হয়?
না। ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার পার্থক্যের কারণে বিভিন্ন দেশে একদিন আগে বা পরে রমজান শুরু হতে পারে।
আগে থেকেই কি রোজার তারিখ নিশ্চিত জানা যায়?
না, ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী চাঁদ দেখার পরই নিশ্চিত হয়।
রমজানের প্রস্তুতি কবে থেকে নেওয়া ভালো?
রমজানের অন্তত ৭–১০ দিন আগে থেকে।
গুজব তারিখ বিশ্বাস করা উচিত?
না, অফিসিয়াল ঘোষণাই অনুসরণ করা উচিত।
চাঁদ দেখা না গেলে কি রোজা একদিন পিছিয়ে যায়?
হ্যাঁ। ২৯ শাবানে চাঁদ দেখা না গেলে শাবান ৩০ দিন পূর্ণ হয় এবং তার পরদিন থেকে রমজান শুরু হয়।
